বই রিভিউ #২৯
বই: দ্বীনের পথে যাত্রা
লেখক: মাওলানা তানজীল আরেফীন আদনান
- বইঃ দ্বীনের পথে যাত্রা
- লেখকঃমাওলানা তানজীল আরেফীন আদনান
- প্রকাশনীঃ উমেদ প্রকাশ
- পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১২৮
- মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা
দ্বীনে ফিরে অনেকে বোঝেনা তার পরবর্তী দায়িত্ব কি হবে, এখন তার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আশেপাশে সৎ সঙ্গ না থাকার দরুন, কোনো সুপারভাইজার না পাওয়ায় ও নিজের চারপাশটা দ্বীন পালনের প্রতিবন্ধক হওয়ায় সে পায় না কোনো গাইডলাইন।এই গাইডলাইনের অভাবে অনেকে তাদের জীবন-বসন্তের আকাশচুম্বী জযবাকে রাখে অনিয়ন্ত্রিত। কেউবা তার ভিতরের সম্ভাবনাকে করে নষ্ট। এভাবে এক সময় সে হারিয়ে ফেলে বহু মূল্যবান সেই "হেদায়েত"। সে আবার ফিরে যায় তার সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন জাহেলি জীবনে।
তাই দ্বীনে ফেরা ভাই-বোনদের তরে কলম ধরেছেন পরিচিত লেখক মাওলানা তানজীল আরেফীন আদনান। প্রাঞ্জল ভাষায়,সাবলীল ভঙিমায় বলেছেন কি হবে একজন হেদায়েত-প্রাপ্ত বান্দার পরুবর্তী মিশন। এভাবেই জন্ম হয়েছে "দ্বীনের পথে যাত্রা" বইয়ের।
বইয়ের বিষয়গুলোর ধারাবাহিকতা চমৎকারভাবে ধরে রাখা। তাই প্রথমেই এসেছে তাওবার ব্যাপারে আলোচনা- এর পথে অলসতা ও ঢিলেমীসহ নানা প্রতিবন্ধকতার ইতিবৃত্ত। তারপর বলা হয়েছে কিভাবে সহজ উপায়ে কার্যকরী তাওবা করা যায়।
আবার যেনো একজন গুনাহে ফিরে না যায় তাই গুনাহের উপকরণের থেকে বেঁচে থাকার উপায় নিয়ে লেখা হয়েছে। দ্বীনের পথে আল্লাহর ইচ্ছায় অটল থাকার জন্য খুব বেশি প্রয়োজন নিজের বাসায় দ্বীনি পরিবেশ গড়ার। কিভাবে তা করা যায় সেই দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে এই বইয়ে। শুধু আধ্যাত্মিকতার দিক বিবেচনায় রেখে না, সাথে সময়কে কাজে লাগানোর জন্য উপকারী সব টিপস লেখক দিয়েছেন এই বইয়ের মাঝে।
সময়ের সদ্ব্যবহারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে ইলমের জন্য সময় বের করার ব্যাপার। একজন মুসলিমের জীবনে আল্লাহর বিধান মেনে চলার জন্য জরুরী পরিমাণ ইলম বা জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ আমাদের এতোশতো ডিগ্রি থাকলেও,এই দরকারী জ্ঞান শূন্যের কোঠায়। তাই ইলম শেখার উপর জোর দিয়ে অনলাইনে ও অফলাইনে ইমল শেখা যায় কিভাবে এবং সাথে কিভাবে নিজের রুটিন থেকে সময় বের করার যায় সেই ইলম অন্বেষণের জন্য,তাও বলে দিয়েছেন দরদী লেখক।
আজ আমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে প্রায় সম্পর্কহীন এক জীবন যাপন করে চলেছি। তাই ডিপ্রেশন আমাদের নিত্যসঙ্গী। দ্বীনে ফেরার পর এইসব যন্ত্রণা পিছু নিয়ে থেক এযেতেই পারে। হতাশার বিষক্রিয়া থেকে বাঁচতে কিভাবে কুরআন-যিকিরের সাহায্য নেওয়া যায় তাও বইয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নাতিদীর্ঘ আলাপ করা হয়েছে ইদাদ গ্রহণের ব্যাপারে।
সবশেষে দ্বীনে ফেরার পর কিভাবে দ্বীনের ব্যাপারে ফ্যান্টাসিতে পড়ে আবার দ্বীন থেক বেরিয়ে যায় মানুষ,সেই সমস্যাগুল চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা প্রদানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে "দ্বীনের পথে যাত্রা" বইটি।
পাঠ্যানুভূতিঃ
"পর্দা গাইডলাইন" বইয়ের পরে মাওলানা তানজীল আরেফীন আদনানের লেখা আমার দ্বিতীয় পড়া বই হলো "দ্বীনের পথে যাত্রা"। লেখকের ফেসবুক ওয়ালে বই প্রকাশের আগে কিছু খণ্ড খণ্ড লেখা পরে অনেক আগ্রহ জন্মে এই বই কেনার। তারপর সময়-সুযোগ বুঝে কিনে ফেলি বইটা।
সেমিস্টার ব্রেকে এসে ইচ্ছে ছিল এই বইটা আগে পড়ে ফেলার। আলহামদুলিল্লাহ সেই ইচ্ছে পূরণ হলো। লেখক তানজীল আরেফীন আদনানের বই ভালোলাগার একটা বড় কারণ হলো সাবলীল লেখা। যেকোনো পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে লেখনীর কথাগুলো। খুব স্পষ্টভাবে,দরদ দিয়ে লেখা উনার বইগুলো মাশ আল্লাহ।
তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলোও উনি এমন সহজভাবে লেখেন যেন সর্বসাধারণকে উপদেশ দিচ্ছেন । সেই কাজটায় তার লেখনী করে দিচ্ছে তার অনুপস্থিতিতে পাঠকের সামনে। এই বইও তার ব্যতিক্রম নয়। হৃদয়গ্রাহী এর আবেদন,সাথে আলোচনাগুলোও বর্ণিত হয়েছে স্পষ্টভাবে। তাই যেকোনো সদ্য দ্বীনে ফেরা মানুষ ইংশা আল্লাহ এর থেকে উপকৃত হতে পারবে সরাসরি যেমন একজন ছাত্র উপকৃত হয় গাইডবই থেকে।
লেখকের তাবলিগের মেহনতের সাথে সম্পৃকতা থাকায় তাবলিগের ব্যাপারে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনাও এনে জনসাধারণের খুব কমন কিছু ভুল ধারণার অপনোদন করেছেন।
অল্প কয়েক জায়গায় ছাড়া বানান ভুল চোখে পড়েনি। কভারটা সাদামাটা,ছিমছাম। সামগ্রিকভাবে বইটা ছিল একটা সুখপাঠ্য। আপনার আশেপাশের সদ্য দ্বনে ফেরা কাউকে পেলে এই বইটা উপহার দিয়ে তাকে তার কণ্টকাকীর্ণ চলার পথ করে দিতে পারেন কিছুটা সহজ ইংশা আল্লাহ।

Comments
Post a Comment